মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে।
একটি পশ্চিমা সূত্র জানায়, সমঝোতার লিখিত খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং এটি শনিবারের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান নির্ধারণ করা হয়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, সমঝোতায় লেবানন ইস্যুতে ইরান তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। দেশটি দাবি করছে, লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে চলমান ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি পূর্বঘোষিত কিছু হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে একটি দারুণ সমঝোতায় পৌঁছেছি।’
শুক্রবার ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে তেল-নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার তহবিল ফেরত দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর মতো শর্ত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত অর্জনের মধ্যে থাকতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যা গত ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তেজনার কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। তবে তেহরান বলছে, তাদের এমন কোনো অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর জানায়, সম্ভাব্য সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরান ঘিরে থাকা সেনা উপস্থিতি হ্রাস এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বড় ধরনের ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনার প্রস্তাবও থাকতে পারে।