বরগুনার এক স্কুলছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সাভার থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সমকামী সম্পর্কের সূত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কালেক্টরেট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা আক্তার জুঁই (১৩) নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার নানা মো. মজিবুল হক মধু বরগুনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জুঁইয়ের মা নয়নতারা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বরগুনা থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর এলাকার জয়নাবাড়ি উত্তরপাড়া থেকে জুঁইকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সাথী আক্তার মারিয়া (২৮), আর্থি আক্তার (১৭), জান্নাত আক্তার যতী (১৬) এবং আরও এক নারীকে আটক করা হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের একটি অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ জুন নাটোর থেকে জান্নাত আক্তার যতী এবং ৭ জুন ধামরাই থেকে আর্থি আক্তার সাভারের হেমায়েতপুরে সাথী আক্তার মারিয়ার বাসায় আসে। পরে মিথিলা আক্তার জুঁইয়ের অনুরোধে তারা একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে ৮ জুন সকালে বরগুনায় পৌঁছায়। সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সরকারি কালেক্টরেট স্কুলের সামনে জুঁইয়ের সঙ্গে দেখা করে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরবর্তীতে তারা সাভারে সাথী আক্তার মারিয়ার এক সহকর্মীর ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিল।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে জুঁইকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে।
বরগুনা থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া মিথিলা আক্তার জুঁইকে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সূত্র ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।