২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম সামান্য বাড়ানো হলেও বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব উভয় দিক থেকেই নেতিবাচক হিসেবে দেখছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠানগুলো।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) বলছে, প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার বাড়বে, বিশেষ করে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কমদামি সিগারেটের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দাম বৃদ্ধি দাঁড়াচ্ছে মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ, যা মাথাপিছু আয়ের ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।
ফলে বাস্তবিক অর্থে সিগারেট সস্তা হয়ে যাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা, যা দরিদ্র ও তরুণদের মধ্যে ব্যবহার বাড়াতে পারে।
অন্যান্য স্তরের দামও সীমিত হারে বৃদ্ধি
মধ্যম স্তর: ৮০ টাকা → ৯২ টাকা
উচ্চ স্তর: ১৪০ টাকা → ১৬০ টাকা
প্রিমিয়াম স্তর: ১৮৫ টাকা → ২১০ টাকা
বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম, ফলে তামাক ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ আসবে না।
কর কাঠামো অপরিবর্তিত, কোম্পানির মুনাফা বাড়ার শঙ্কা
তামাক নিয়ন্ত্রণে কর কাঠামোয় বড় কোনো সংস্কার না থাকায় বাড়তি দামের একটি অংশ কোম্পানির মুনাফা হিসেবে থেকে যেতে পারে। এতে তামাক কোম্পানিগুলো আরও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞা ও আত্মা’র প্রস্তাব অনুযায়ী
নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ
সুনির্দিষ্ট শুল্ক (প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা) আরোপ
এগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।
বাজেটে বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় এগুলো আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।
নিকোটিন পণ্য ও নতুন কর প্রস্তাব
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে—
নিকোটিন পাউচে ৪০% সম্পূরক শুল্ক ও ৫০০ টাকা খুচরা মূল্য
হিটেড টোব্যাকোতে ৬৭% শুল্ক ও ২১০ টাকা দাম
নিকোটিন গ্র্যানুলসে ৩৫০% শুল্ক
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব থাকলেও তা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাজেট পাস হলে তামাকপণ্য আরও সস্তা ও সহজলভ্য হবে, ফলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে পড়বে এবং মৃত্যুহারও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, এবং প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যান বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞা ও আত্মা সরকারকে চূড়ান্ত বাজেটে শক্তিশালী তামাক কর সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।