দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আবারও দ্রুতগতিতে বেড়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিকে নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশই এখন খেলাপি ঋণ, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও আগের প্রান্তিকের তুলনায় জানুয়ারি–মার্চ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। বর্তমানে এসব ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে এটি বাড়তে বাড়তে ২০২৪ সালের জুনে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচন ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
ব্যাংকারদের মতে, বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে ঋণ অনিয়ম, জালিয়াতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বড় গ্রুপগুলোর ঋণ খেলাপির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ও কিছু ব্যাংকে সংঘটিত অনিয়ম খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।