গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা, মারধর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে এক নারীকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (২নং সিএন্ডবি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় তিন নারীসহ চারজন আহত হন। পরে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— সমলা খাতুন (৯৫), সাইফুল ইসলাম (৪০), মাসুদা আক্তার (৪২) ও বিথী আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কেওয়া মৌজার ৫৬ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে এবং আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে বিবাদীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
বাদী তাইজুল ইসলামের অভিযোগ, শনিবার সকালে জমি থেকে কাঁঠাল পাড়তে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দা, লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা তার ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির উঠানে থাকা নারী-পুরুষদের মারধর করা হয়। তাদের উদ্ধার করতে গেলে আরও একজন নারী হামলার শিকার হন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় এক নারীর গলা থেকে প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া এক নারীকে অর্ধবিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নারী নির্যাতনের ভিডিও ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।