
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রংপুর মহানগরীতে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে পশু জবাইয়ের জন্য ৬৬টি নির্ধারিত স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।
তিনি বলেন, নগরবাসী যেন যত্রতত্র পশু কোরবানি না করে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেন। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা সহজ হবে।
সিটি প্রশাসক জানান, প্রতিটি নির্ধারিত স্থানে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া কোরবানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, মসজিদ-মাদরাসার শিক্ষক ও দক্ষ কসাই নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শ্যামাসুন্দরী ক্যানেল, কেডি ক্যানেলসহ বিভিন্ন ড্রেন ও খালে যেন কেউ পশুর বর্জ্য না ফেলেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সাধারণত ১২ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও রসিক এবার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ২টায় নগর ভবনের সামনে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনের এক হাজার ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তিনটি জোনে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্জ্য অপসারণে ট্রলি, রিকশাভ্যান ও ট্রাক ব্যবহার করা হবে।
নগরবাসীর সুবিধার্থে পশুর বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত সহায়তার জন্য একটি হটলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। নম্বরটি হলো— ০১৭৩৩৩৯০১৫০।
ঈদগাহ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহমুদুর রহমান টিটুসহ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ঈদ উদযাপন সম্ভব। এজন্য সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।