চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিপো থেকে প্রায় ৯ হাজার লিটার বিমানের জ্বালানি তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে বিমানবন্দর ডিপো থেকে একটি ট্যাংক লরি (চট্ট মেট্রো-ম-০৯-০০১০) করে তেল চুরি করা হয়। পরে বিমানবন্দরের পাশের প্রজাপতি পার্ক এলাকায় চোরাই তেল আনলোড করার সময় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম হাতেনাতে লরিটি জব্দ করে। এ সময় কোস্ট গার্ড ও পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হককে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিল্টন রায়কে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিপিসির মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, পদ্মা অয়েলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল ও পরিকল্পনা) মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং বিপিসির উপব্যবস্থাপক খন্দকার সাজবির রহমান।
পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে দুর্বৃত্তরা এটি কেরোসিন, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। তাদের দাবি, তেল বিক্রির সময় কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রতি লাখ লিটারে প্রায় এক হাজার লিটার কম সরবরাহ করা হয়। সেই ঘাটতি থেকে জমা হওয়া তেল দিয়েই এ ধরনের চুরির হিসাব সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
পদ্মা অয়েল সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার সকালেই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ডিপোতে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ।
তারা হলেন—প্রধান স্থাপনার কর্মী মো. ইদ্রিস ভুট্টো এবং গাড়িচালক মো. জসিম উদ্দিন। পদ্মা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক মীর মো. ফখরউদ্দিন স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, চুরির ঘটনা জানাজানির পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবকিছু যাচাই-বাছাই করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।