বগুড়ার আদমদীঘিতে ট্রাক্টর, চার্জার চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অটোরিকশা চালক মনোয়ার হোসেন (৬১) নিহত হয়েছেন। নিহত মনোয়ার জয়পুরহাটের পাঁচবিবির রামভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। এসময় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ আরো ৬ জন।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের লছিরের বাগান সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের তালঘড়িয়া বাজার এলাকায় তিনটি চার্জার চালিত অটোরিকশাযোগে বেশ কিছু রোগী একটি কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁ-নাটোর বাইপাস সড়কের সান্তাহার ইউপির ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জনৈক লছিরের বাগান সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে অপরদিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে চার্জারচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে।
এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশা চালক মনোয়ার মারা যান। এ সময় অটোরিকশায় থাকা শিশুসহ চার যাত্রী এবং মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহতরা হলেন- অটোরিকশায় থাকা জয়পুরহাটের পাঁচবিবির রামভদ্রপুর গ্রামের নজরুলের স্ত্রী রাফিয়া খাতুন (৫০), একই গ্রামের আবু কাশেমের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (৩০), তাঁর ২ বছর বয়সী শিশু আবু তোহা, আব্দুল বারিকের ছেলে হুনাইব (২০) এবং মোটরসাইকেল আরোহী নওগাঁ সদর এলাকার কোমাইগাড়ীর কাছির সরকারের ছেলে মনসুর আলী (৫৫) ও আবুল সরকারের ছেলে মাহমুদ জুয়েল (৫২)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আদমদীঘি থানার এসআই রফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, চার্জারচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে গুড়া হয়ে গেছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর ট্রাক্টর, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই ট্রাক্টর চালক পালিয়ে যায়।