যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে সফল হননি। তবে এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অভিযানে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের অধীন জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযানে ইউরেনিয়াম স্থল ও সমুদ্রপথে নিরাপদে উত্তর আমেরিকায় নেওয়া হয়। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি জ্বালানি বিভাগের স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড় আসে। পরে ওয়াশিংটন ও কারাকাস সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। এরই মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সফর করেছেন। সাত বছরের বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইটও চালু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় তাদের দূতাবাসও চালু করেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলভান্ডারের অন্যতম মালিক ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়কে ব্যবসায়ী মহল স্বাগত জানিয়েছে। তবে গণতন্ত্রপন্থী কর্মীরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে কোণঠাসা করার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।