ইরান যুদ্ধ নিয়ে মহাবিপদে ট্রাম্প, খুঁজছেন বাঁচার উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ। প্রতিদিন বিপুল সামরিক ব্যয়, জ্বালানির

2026-03-09T14:22:22+00:00
2026-03-09T14:22:22+00:00
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মহাবিপদে ট্রাম্প, খুঁজছেন বাঁচার উপায়
প্রতিদিন ১০০ কোটি ডলার খরচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম 
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ। প্রতিদিন বিপুল সামরিক ব্যয়, জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোটারদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ মিলিয়ে এই যুদ্ধ এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

ভার্জিনিয়ার আরলিংটনের কাছে একটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন ৫৬ বছর বয়সী ইয়াম সিতৌলা। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই জ্বালানির দাম বাড়ছে—কখনো ১০ সেন্ট, কখনো তারও বেশি। এতে গ্রাহকেরা প্রায়ই জানতে চাইছেন কেন দাম বাড়ছে।

হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত ওই স্টেশনেও ইরানে মার্কিন হামলা শুরুর পর থেকেই নিয়মিত দাম বাড়ছে। সিতৌলার ভাষায়, তার মালিক প্রায় প্রতিদিন ফোন করে সাইনবোর্ডে নতুন দাম বসাতে বলছেন। এমনকি সামনে দাম আরও প্রায় ১ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অনেকেই সরাসরি ইরান যুদ্ধের প্রভাব দেখছেন। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এই পথ বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক মোতায়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, মোট ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বিপুল ব্যয় ট্রাম্পের ‘মাগা’ সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় নয়। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্যাপিটল হিলের একটি গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানি বাজারেও।

প্লাইমাউথ ইনস্টিটিউট ফর ফ্রি এন্টারপ্রাইজের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড স্টার্ন বলেন, জ্বালানির দাম অনেক সময় জনমতের বড় সূচক হয়ে ওঠে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও একসময় বলেছিলেন, তার জনপ্রিয়তার অনেকটা বোঝা যেত গ্যাসোলিনের দামের মাধ্যমে।

এদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে যে ট্রাম্প বিদেশনীতি নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কি না। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার প্রশাসন তদন্ত, অভিশংসন এবং আইন প্রণয়নে অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জ্বালানির দাম কমানোর উপায় খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ফেডারেল গ্যাসোলিন কর সাময়িকভাবে বাতিল করার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের বড় উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয়। ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপে ৩০ শতাংশেরও কম মানুষ বলেছেন তারা আর্থিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। আর ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন, খাদ্যের দাম তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ব্যয় এবং জ্বালানির দামের চাপ একসঙ্গে বাড়তে থাকলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: