মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ ও একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শের উদ্দেশ্যে এ সফর করছেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পারমাণবিক ও শান্তি চুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। তার দাবি, নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না।
ট্রাম্প আরও জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না এবং দেশটির অবশিষ্ট পারমাণবিক উপকরণ ভবিষ্যতে ধ্বংস করা হবে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, চুক্তিটি রোববার স্বাক্ষরিত হচ্ছে না।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি