ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। দেশটির করাচি শহরে মার্কিন কনস্যুলেটে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়েছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংঘাতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালিয়েছে একদল বিক্ষোভকারী। তারা ভবনের জানালা ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম ডন।
করাচির উদ্ধারকারী সংস্থা এধি ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন এএফপিকে বলেছেন, কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ করাচির বেসামরিক হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এছাড়া আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ মার্চ) ইরান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর করাচিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনিসহ প্রায় দুই শতাধিক ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন; এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নামেন বিক্ষোভকারীরা।
পাকিস্তানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইধি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। তাদের অ্যাম্বুলেন্স মরদেহ ও আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে।
ডনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, নয়টি মরদেহ করাচির সিভিল হাসপাতাল করাচিতে আনা হয়েছে।
সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার করাচির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আযাদ খানের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানতে চান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।’ তিনি সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া যানজট নিরসনে বিকল্প রুট নির্ধারণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। লাঞ্জার সতর্ক করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
এদিন সকাল ১১টার দিকে করাচি ট্রাফিক পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের কারণে সুলতানাবাদ ট্রাফিক সেকশন থেকে মাই কোলাচির দিকে উভয় পাশের সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। নাগরিকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।