ইরান–মার্কিন সংঘাত নতুন করে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে একাধিক হামলার ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলায় রোববার (১৯ জুলাই) ভোরে ইরানের কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চালানো মার্কিন হামলায় দক্ষিণ ইরানের বান্দার খামির শহরের দুই ইরানি কিশোরী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে দূতাবাস জানায়, নিহত দুই কিশোরীর নাম সোগান্দ দার্দমান্দ এবং ফাতেমা জাহরা আকবারি।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৮ মিনিট থেকে ৩টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি বিবৃতি কিংবা ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কর্মকর্তারা এখনও কোনো তথ্য জানায়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার কিছু আগে বান্দার আব্বাস ও কেশম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান ও কারণ প্রথমদিকে তদন্তাধীন ছিল।
পরে মেহর নিউজ জানায়, স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে কেশমের কাছে একটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং আগের রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দ্রুত জবাব দেওয়া।
সেন্টকম আরও জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।