ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (প্রস্তাবিত) অধ্যাদেশ দ্রুত জারি করার দাবিতে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২ টায় ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১টায় সাইন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। এসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি সাইন্সল্যাব মোড় হয়ে ইডেন কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় তারা আপস না সংগ্রাম? সংগ্রাম, সংগ্রাম, রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ জারি করো অধ্যাদেশ, সিন্ডিকেটের সময় শেষ জারি করো অধ্যাদেশ, দালালি না রাজপথ? রাজপথ রাজপথ, টালবাহানা বন্ধ করো অধ্যাদেশ জারি করো ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
২০২৪-২৫ নবীণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে শিক্ষকরা নানাভাবেই হয়রানি ও টালবাহানা করে আসছেন। ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তারা একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন করেছেন। নানা জটিলতা ও বাধা অতিক্রম করে ভর্তি সম্পন্ন করলেও শিক্ষকরা ক্লাস নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকরা এখন নতুন করে অজুহাত দেখাচ্ছেন নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের দাবি মূলত শিক্ষকরাই বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাদেশ জারির বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে স্বাভাবিক ক্লাসে ফিরতে চান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এত আলোচনা–সমালোচনা, মতামত–গ্রহণ ও তিন দফা বৈঠকের পরও অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাবর্ষের সেশন–স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীসহ চলমান সব বর্ষের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী বর্তমানে এই অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন শুধুই অধ্যাদেশ। ৩টি সভা শেষ করেও এখনো আমাদের চূড়ান্ত মুক্তির সেই অধ্যাদেশের কোনো গতিশীলতা আমাদের চোখে পড়ছে না। সেই সঙ্গে পরিচয় সংকট ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিশ্চয়তার মুখে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীসহ চলমান সব শিক্ষাবর্ষের প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। আমরা চাই দ্রুতই অধ্যাদেশ জারি করা হোক। সে জন্যই আজ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জিহাদ বলেন, গত দেড় বছর ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় সংকট দূর করতে আমাদের নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। গত অক্টোবরে রাষ্ট্র একটি খসড়া অধ্যাদেশ জারি করেছে, যা আমাদের জন্য একটি সুন্দর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় মডেল তৈরি করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সাত কলেজের কিছু শিক্ষা ক্যাডার নিজেদের স্বার্থে এই মডেলের বিরোধিতা করছে। এ কারণে আমরা দেড় বছর ধরে রাস্তায় নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন করে আসছি।
ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল এ্যানি বলেন, আমাদের প্রথম ও চূড়ান্ত দাবি অধ্যাদেশ চাই। গত তিন মাস ধরে আমরা অবর্ণনীয় ভোগান্তির মধ্যে আছি। ক্লাস করতে পারছি না, পড়াশোনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগেও যখন ভর্তি নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তখনও আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছিলাম আমরা অধ্যাদেশ চাই। নিয়ম-নীতির একটি মডেল চাই, যাতে ক্লাস নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু বারবার প্রশাসন আমাদের ঘুরিয়ে-পাল্টিয়ে শুধু ভোগান্তিতেই ফেলছে। তাই এখন আমাদের দাবি একটাই অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। আমরা আশা করি অধ্যাদেশ হলেই ক্লাস স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়। প্রস্তাবিত নামটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্ধারণ করে। কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।