২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আগামী ২২ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। গতকাল সোমবার মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিনে জোট করে প্যানেল ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ নামে এই প্যানেলে সহ সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করবেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব এবং জিএস পদে লড়বেন শাখ্ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে কারাভোগ করা খাদিজাতুল কুবরা।
গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় এই প্যানেল ঘোষণা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান নেতারা। তারা এটিকে ইনক্লুসিভ প্যানেল বলেও আখ্যায়িত করছেন।
এ ছাড়া ২১ সদস্যের এ প্যানেলে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে বিএম আতিকুর রহমান তানজিল, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে অনিক কুমার দাস, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে নুসরাত চৌধুরী জাফরিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মো: মাসফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে আল শাহরিয়ার শাওন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে অপু মুন্সী (ছাত্র অধিকার), সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোঃ কামরুল হাসান নাফিস, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হাসান, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে মোঃ আনন বিন রহমান, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে রিয়াসাল রাকিব মনোনীত হয়েছেন।
এ ছাড়াও ৭টি নির্বাহী সদস্য পদের মধ্যে ৬টি পদের নাম ঘোষণা করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। একটি নির্বাহী সদস্য পদের নাম পরে ঘোষণা করবেন জানিয়ে ৬টি নির্বাহী সদস্য পদে ইমরান হাসান ইমন, সাদমান সাম্য, সুলতান মাহমুদ শুভ, মনিরুজ্জামান মনির, তৌহিদুল ইসলাম তামিম, আরিফুল ইসলাম আরিফের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এসময় একটি সদস্য পদে প্রার্থীর নাম পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানানো হয়। এরমধ্যে তাকরিম আহমেদ, অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাস ও আল শাহরিয়ার শাওন কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে জানা যায়।
প্যানেল ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, নির্বাচনে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ নামে প্যানেল ঘোষণা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এটি জবির প্রথম জকসু নির্বাচন। শহীদ সাজিদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আসন্ন জকসু নির্বাচনের বহু মত থাকবে। আশা করি এই প্যানেল জয়ী হলে তারা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দাম কমানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করবে। এই প্যানেল জয়ী হলে শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবে।
প্যানেল ঘোষণার পর প্রার্থীরা জকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেন। এসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, ছাত্র অধিকারের জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি’সহ ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একাংশের বিক্ষোভ :
জকসু নির্বাচনে জোট ভিত্তিক ইনক্লুসিভ প্যানেল ঘোষণার পর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রদলের বঞ্চিত প্রার্থীরা। একইসাথে ছাত্রদলের অনেকে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে তুলেছেন মনোনয়ন ফর্ম। ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচন করার সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরা এদবলেন, ভাড়াটিয়া প্যানেল ঘোষণা করা হচ্ছে। যেখানে ছাত্রদলের প্রনোদিত ব্যক্তিরা বঞ্চিত হচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিব না। এ বিষয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো ফাহাদ বলেন, ছাত্রদলের যে চারশোর অধিক সদস্য সেখানে আমাদের নাম আসেনি, যদিও আমাদের সিনিয়রদের নাম এসেছিল তাই আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। যেহেতু আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে তাই আমরা বিক্ষোভের মাধ্যমে আমাদের দাবি জানিয়েছি।
এর আগে, ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌহিদ চৌধুরী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তৌহিদ চৌধুরী বলেন, আমি স্বতন্ত্র থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা এবং তাদের প্রতিনিধিত্ব করা।###