অতীতে মানুষকে ধোঁকা দিতে পরিসংখ্যানের অপব্যবহার হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য

পরিসংখ্যানকে একসময় মানুষকে বিভ্রান্ত ও ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল

2026-11-08T15:03:50+00:00
2026-11-08T15:09:47+00:00
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
বাণিজ্য
অতীতে মানুষকে ধোঁকা দিতে পরিসংখ্যানের অপব্যবহার হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৩ পিএম  আপডেট: ০৮.১১.২০২৬ ৩:০৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
পরিসংখ্যানকে একসময় মানুষকে বিভ্রান্ত ও ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, অতীতের সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিতুমীর বলেন, পরিসংখ্যানের প্রধান কাজ হলো প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা। অথচ অতীতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও অপতথ্যের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। তাই দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি। পরিসংখ্যানকে কেবল পাঠ্যপুস্তকের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিসংখ্যান তৈরি, জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্যের ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য সহজলভ্য করা—এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অতীতের তথ্যগত অসংগতির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একসময় দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এমন বড় ব্যবধান থেকেই অতীতে পরিসংখ্যান তৈরির দুর্বলতা ও অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি বদলাতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ত্রুটির প্রসঙ্গ টেনে তিতুমীর বলেন, অতীতে প্রকৃত উপকারভোগীদের অনেকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে, যাঁদের পাওয়ার কথা নয়, তাঁরাও সুবিধা পেয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে। এ ধরনের ভুল কমাতে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতেও প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করা এর অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি জানান, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওপেন ডাটা পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ নীতিমালা তৈরি করা হবে।

তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ে অন্যদের তৈরি করা ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারকে কঠিন প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য তথ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: