জোটের মঞ্চে জামায়াতের প্রাধান্য, নিজস্ব পরিচয় ফেরাতে মাঠে নামছে এনসিপি

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় জোরালো করতে চাইছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোটের কর্মসূচিতে অংশ

2026-10-29T20:04:38+00:00
2026-10-29T20:05:23+00:00
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
রাজনীতি
জোটের মঞ্চে জামায়াতের প্রাধান্য, নিজস্ব পরিচয় ফেরাতে মাঠে নামছে এনসিপি
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম  আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ৮:০৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় জোরালো করতে চাইছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে দলটি জামায়াতের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পড়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে এনসিপির ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ কারণে জোটের বড় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে তারা।

এরই অংশ হিসেবে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চের আগের দিন শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এনসিপি। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করছে। অন্যদিকে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) খুলনা বিভাগে ১১ দলের লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে।

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এবারের লংমার্চে এনসিপির উপস্থিতি আগের দুই কর্মসূচির তুলনায় সীমিত হতে পারে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিনিধি হিসেবে জ্যেষ্ঠ নেতা সারজিস আলমের যাওয়ার সম্ভাবনার কথা আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে লংমার্চসহ বড় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে এনসিপি। চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের আগের দুই লংমার্চে দলটির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ শীর্ষ নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তবে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরও স্বতন্ত্র দল হিসেবে এনসিপির পরিচিতি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা কতটা বাড়ছে, তা নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন রয়েছে।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, দলটির সঙ্গে জামায়াতকে এক করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। অথচ দুই দলের মতাদর্শ, সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা। এই পার্থক্য জনপরিসরে স্পষ্ট করতেই এনসিপি নিজস্ব কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্যের মতে, ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চগুলো জনপরিসরে অনেকটা জামায়াতের কর্মসূচি হিসেবেই পরিচিতি পাচ্ছে। ফলে জোটের কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেও এনসিপি আলাদা দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশিত সুযোগ পাচ্ছে না।

নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৩ অক্টোবর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করছে এনসিপি। এসব প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

এসব কর্মসূচিতে ১১ দলের খুলনামুখী লংমার্চের পক্ষে তাঁদের উল্লেখযোগ্য বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। বরং শুক্রবারের গণবিক্ষোভকে ঘিরে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার এ কর্মসূচিতে দুই থেকে তিন হাজার মানুষের সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

তবে গণবিক্ষোভ আয়োজনের সঙ্গে জোটের লংমার্চের কোনো বিরোধ নেই বলে দাবি করেছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলটির দুজন প্রার্থী রয়েছেন। মহানগর কমিটি পুনর্গঠন এবং জনসম্পৃক্ত বিষয়ে স্বতন্ত্র কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ গণবিক্ষোভের আয়োজন করা হচ্ছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের আরেক সদস্যের ভাষ্য, খুলনা বিভাগীয় লংমার্চে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নাও যেতে পারেন। এখন পর্যন্ত আলোচনায় সারজিস আলমের অংশ নেওয়ার বিষয়টি এসেছে। সে ক্ষেত্রে আগের দুই লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি কম হতে পারে।

তবে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব নাহিদ ইসলামকে খুলনা বিভাগীয় লংমার্চে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বলে এনসিপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে। বুধবার ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠকেও অংশ নেন নাহিদ ইসলাম। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি লংমার্চে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে সাংগঠনিক দূরত্ব বজায় রাখার চিন্তা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্য। তাঁর মতে, জোটের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলেও নিজস্ব পরিচয় ও সাংগঠনিক স্বাতন্ত্র্য দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয়তা দলটির কাছে বাড়ছে।

তবে এনসিপির স্বতন্ত্র গণবিক্ষোভকে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বিরোধী কোনো অবস্থান হিসেবে দেখছেন না সারোয়ার তুষার। তাঁর বক্তব্য, মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জোটের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং একই সঙ্গে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে এনসিপি। খুলনার লংমার্চে দলটির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি কতটা থাকবে, তা থেকে জোটের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সমন্বয়ের ধরন সম্পর্কে আরও ইঙ্গিত মিলতে পারে। তবে সীমিত উপস্থিতি বা নিজস্ব কর্মসূচিকে এককভাবে জোট থেকে দূরে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: