নিখোঁজের দিন জুনিয়রের ফোন পেয়ে বাসা ছাড়েন তাহসিফ, রাতে মাকে পাঠান বার্তা

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় জুনিয়র এক সহকর্মীর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার

2026-10-29T15:02:31+00:00
2026-10-29T15:02:31+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
নিখোঁজের দিন জুনিয়রের ফোন পেয়ে বাসা ছাড়েন তাহসিফ, রাতে মাকে পাঠান বার্তা
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় জুনিয়র এক সহকর্মীর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু আর ফেরা হয়নি তাঁর। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ এরপর পরদিন রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মরদেহ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।

তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরোটা সময় মায়ের সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর ‘দ্বীপ’ নামে এক জুনিয়র বাসার নিচ থেকে ডাকলে মাকে জানিয়ে বাইরে চলে যান তিনি। এরপর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা।

তাহসিফের বাবা বলেন, ছেলের মা বারবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের কাছ থেকে একটি বার্তা আসে। সেখানে তিনি বাসায় ফিরছেন বলে জানান। কিন্তু এরপর আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ছেলের খোঁজ না পেয়ে বুধবার দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় যান তাহসিফের বাবা। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ তখন তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, খারাপ কোনো খবর নেই। তবে ওই দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নদীতে মরদেহ উদ্ধারের খবর দেওয়া হয় পরিবারকে।

তাহসিফের বাবা জানান, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় মরদেহটি পাওয়া গেছে। সেখানে যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় তাঁর ছেলে কখনো গিয়েছিলেন বলে তাঁর জানা নেই। কারা বা কেন তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।

বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাঁর বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাহসিফের সংশ্লিষ্ট বিভাগই নিশ্চিত করে বলতে পারবে। পরিবারকে শুধু জানানো হয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চাকরি হারানোর পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তাঁর বাবা জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করার পর সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন তিনি।

তাহসিফের স্বভাব সম্পর্কে তাঁর বাবা বলেন, ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিলেন। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি বা হুমকির বার্তা পরিবারকে জানাননি তাহসিফ। তবে একবার কিছুটা আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় উড়োজাহাজে ওঠার ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: