যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্বাস বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর মিজান ও রেহানা প্রায় ১১ বছর সংসার করেন। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সংসার চলাকালে মিজান বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। দাবি পূরণ না হলে রেহানাকে মারধর করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান স্ত্রীর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠালেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।
তদন্ত শেষে পুলিশ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলার নথিতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রয়েছে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, রেহানা আত্মহত্যা করেছেন এবং মিজানকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আদালত রায় ঘোষণার তিন কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে রায় কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রযোজ্য আইনি অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
যৌতুককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের এমন পরিণতি আবারও সামনে এনেছে নারীর নিরাপত্তা ও পারিবারিক নির্যাতনের ভয়াবহতা। দুই কন্যাসন্তানের মায়ের হত্যার ঘটনায় আদালতের এ রায় এখন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়েছে।