
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সিয়ামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিয়ামের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন মামলা করেন।
মামলার তদন্তে সিয়ামের নামে মোট ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যা তাঁর জ্ঞাত আয় ও বৈধ সম্পদের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিমাণ ছিল ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। পরে আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেন।
এর আগে গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। মামলায় দুদকের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।
সিয়াম একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। পিএসসির প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সিয়ামের বাবা সৈয়দ আবেদ আলী জীবনও পিএসসির প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন। সেই ঘটনায় আবেদ আলী ও তাঁর ছেলের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
দুর্নীতির মামলায় এবার সিয়ামের বিরুদ্ধে আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দিলেন।