কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াকোলা আব্দুল মতিন খসরু গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের সীমানায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে তলব করা হলে আমিনুল ইসলাম হাই কোর্টের আগের আদেশ অমান্য করার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশ মেনে চলার এবং স্কুলের আশপাশে না যাওয়ার অঙ্গীকার করলে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এর আগে আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
কী ঘটেছিল স্কুলে?
হাছিনা ইসলামের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ জানান, হাই কোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও আমিনুল ইসলাম স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
মামলার নথি ও আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমিনুল ইসলামের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তার বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাই কোর্ট।
আইনজীবীর দাবি, আমিনুল ইসলাম ওই রুলকে পুনর্বহালের আদেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেন এবং স্কুলে যাতায়াত শুরু করেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ স্কুল খোলার পর ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে আমিনুল ইসলাম বিদ্যালয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা ইসলামকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলা হয়।
হাছিনা ইসলামের ভাষ্য, তিনি দায়িত্ব পালনের জন্য পাওয়া চিঠির কথা জানিয়ে চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে চেয়ার থেকে সরিয়ে দিতে কয়েকজন লাথি মেরে ফেলে দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি নিয়ে থানায় মামলা হলে আমিনুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। পরে ছয় দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও স্কুলে যাওয়ার অভিযোগ
ওই ঘটনার পর হাছিনা ইসলাম হাই কোর্টে আবেদন করেন। তার আইনজীবীর ভাষ্য, পরে আদালত আমিনুল ইসলামকে পুনর্বহাল না করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
তবে ওই আদেশের পরও আমিনুল ইসলাম সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
বরখাস্তের পেছনে কী অভিযোগ?
হাছিনা ইসলামের দাবি, আমিনুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে একাধিক তদন্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমিনুল ২০১০ সালে স্কুলে যোগ দিলেও নিয়োগের সাল ২০০৪ দেখানো হয়েছিল। ওই নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে তার ও কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিন দফা তদন্ত হয়েছে এবং জেলা শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদন্তেও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পরে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার ছেলেকে মারধরের একটি ঘটনায় আমিনুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত হন। এরপর ২০২৪ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন হাছিনা ইসলাম।
হাই কোর্টের সর্বশেষ আদেশে সেই দায়িত্বই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ পেলেন তিনি। একই সঙ্গে আমিনুল ইসলামের জন্য স্কুলের সীমানায় প্রবেশের পথও বন্ধ করে দেওয়া হলো।