বাংলাদেশকে উপনিবেশ বা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়—এমন শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো অবস্থান নেই। যারা দেশকে উপনিবেশ করতে চায় কিংবা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যারা আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে এবং নানা ধরনের সহিংসতার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দল প্রতিবাদ করছে।
সমাবেশে রিজভী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমান স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধ হলে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং মানুষের কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা গাজী মো. সেলিম রেজা। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।