ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে আবারও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে এবং জেরুজালেম হবে উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বক্তব্য দেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই বিশ্বাসযোগ্য পথ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্য, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও সংকটে ফেলছে। জাতিসংঘের ২২ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যেও তিনি সতর্ক করেছেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বসতি সম্প্রসারণ শান্তির পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
যে চার বিষয়ে জোর গুতেরেসের
দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এর মধ্যে রয়েছে—
⇨ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা;
⇨ ভূখণ্ড সংযুক্তিকরণ ঠেকানো;
⇨ ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়া;
⇨ ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।
গুতেরেসের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি বসবাস করতে হবে। এ কাঠামোর কেন্দ্রে থাকবে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র।
‘এর কোনো বিকল্প নেই’
জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের অবস্থানও হলো—ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পাশাপাশি থাকবে এবং জেরুজালেম হবে উভয়ের রাজধানী।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। গাজার জন্য একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘের নথিতেও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ক্ষেত্রে জেরুজালেমকে উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী করার কথা উল্লেখ রয়েছে।