নিবন্ধনের সময় শেষ হতে বাকি আর মাত্র এক দিন। অথচ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজযাত্রীর কোটার অর্ধেকও পূরণ হয়নি। ৭৮ হাজার ৫০০ জনের বিপরীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩৯ হাজার ১২৬ জন। ফলে শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন না বাড়লে এবারও হজযাত্রীর নির্ধারিত কোটা অপূর্ণ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি—দুই ব্যবস্থাপনাতেই নিবন্ধনের সংখ্যা নির্ধারিত কোটার তুলনায় অনেক কম। শেষ সময়ে নিবন্ধন বাড়াতে সংশ্লিষ্টরা তৎপর হলেও বাকি দুই দিনে কতটা সাড়া পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ১২৬ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ হাজার ৯০৮ জন।
অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৫০০ জনের নির্ধারিত কোটার বিপরীতে এখনও নিবন্ধন বাকি রয়েছে ৩৯ হাজার ৩৭৪ জনের।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আজ ও আগামীকাল—এই দুই দিনে নিবন্ধনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কোটা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
লিড এজেন্সির কোটা ২ হাজার, নিবন্ধন একজনের
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংগ্রহে এবার ২৮টি লিড এজেন্সির প্রত্যেকটির সর্বনিম্ন কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার। আর ৬৭৩টি সমন্বয়কারী এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা ৪৫ জন করে।
তবে অনেক এজেন্সি গত কয়েক বছরেও একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে পারেনি। এরপরও নির্দিষ্টসংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধনের শর্তে এসব এজেন্সিকে এবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে কমপক্ষে ৪৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে হবে। নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে না পারলে চুক্তি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে এজেন্সিগুলো।
লিড এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি লিড এজেন্সি মঙ্গলবার পর্যন্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাত্র একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছে। তবে এজেন্সিটির আওতায় সমন্বয়কারী এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন হয়েছে ১ হাজার ৭৩ জন।
এ বিষয়ে সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত ২ হাজার হজযাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন করার আশা করছেন তারা।
৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন
হজে যেতে আগ্রহীদের প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক্-নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
যারা প্রাথমিক নিবন্ধন করবেন, তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে সময় না বাড়লে বৃহস্পতিবার থেকেই নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।
এবার কমানো হয়েছে বাংলাদেশের হজ কোটা
বাংলাদেশের মোট হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার। তবে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ২০২৭ সালের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু কমানো এই কোটাও পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এর অন্যতম কারণ হিসেবে মানুষের মধ্যে হজের তুলনায় ওমরাহ পালনে আগ্রহ বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।
সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা
আগামী বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৮ এপ্রিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগামী বছর হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ হবে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
সব মিলিয়ে, সময় শেষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত কোটার অর্ধেকও পূরণ না হওয়ায় এখন শেষ দুই দিনের নিবন্ধনের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।