
মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জাসহ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা করেছে সরকার। এর আওতায় সংশ্লিষ্টদের মাসিক সম্মানী, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ভাতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ নামে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার, মূল্যবোধের বিকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এই ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী সেবকদের সম্মানী দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবের সময় উৎসব ভাতাও দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার মনে করছে, এ ব্যবস্থার ফলে উপাসনালয়ের কর্মীদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।
নীতিমালায় শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সংশ্লিষ্টদের পেশাগত ও অন্যান্য দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করা।
ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য সেবক দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের এই ভূমিকার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নীতিমালাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।