টানা বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাতাস সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১৫৬।
একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল অষ্টম অবস্থানে। তালিকার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং, যার একিউআই স্কোর ২৫২। এরপর ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর কিনশাসা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ভিয়েতনামের হ্যানয় ও পাকিস্তানের লাহোর ছিল শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর মধ্যে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল উদ্বেগজনক। আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম স্টেশন তথ্য অনুযায়ী, বারিধারার পার্ক রোড এলাকায় একিউআই স্কোর ১৭৫, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ের। এ ছাড়া গুলশান লেক পার্ক, বারিধারা লেকসাইড, পল্লবী দক্ষিণ, বিআইডিএস, গুলশান-২সহ কয়েকটি এলাকাতেও দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।
বায়ুদূষণের প্রধান উপাদানগুলোর একটি পিএম ২.৫। অতি সূক্ষ্ম এই কণাগুলো সহজেই শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘসময় এসব কণার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য পোড়ানো এবং আশপাশের ইটভাটা ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। আবহাওয়ার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিও দূষিত কণা বাতাসে জমে থাকার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
একিউআই সূচক ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়।
এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাইরে বের হওয়ার সময় কার্যকর মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি নির্মাণকাজের সময় ধুলা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, রাস্তায় পানি ছিটানো, পুরোনো ও অতিরিক্ত ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।