বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ। ৭২ বছর পেরিয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ৭৩ বছরে পা দিলেন বরেণ্য এই শিল্পী।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। চলচ্চিত্রের গান থেকে শুরু করে দেশাত্মবোধক সংগীত—বহুমাত্রিক গানে তাঁর অনন্য কণ্ঠশৈলী তাঁকে নিয়ে গেছে বাংলা গানের কিংবদন্তির আসনে।
১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সাবিনা ইয়াসমিন ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। পরিবার থেকেই সংগীতে হাতেখড়ি। দীর্ঘদিনের সাধনা, চর্চা ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের স্বতন্ত্র গায়কী।
১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় কণ্ঠ।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজারের বেশি গান। এর মধ্যে রয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্রের গান।
প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা কিংবা দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা—বিভিন্ন আবেগের গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে আলাদা মাত্রা। তাঁর অনন্য গায়কীর কারণে শ্রোতাদের কাছে তিনি ‘গানের পাখি’ ও ‘সুরের সম্রাজ্ঞী’ হিসেবেও পরিচিত।
চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক সংগীতেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেমের নানা গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
তাঁর গাওয়া এসব গান আজও শ্রোতাদের মনে একই ধরনের আবেগ ও ভালোবাসা তৈরি করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা গান শুনে বড় হয়েছে।
সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সংগীতের ধরন, প্রযুক্তি ও গান শোনার মাধ্যম। রেডিও-টেলিভিশনের যুগ পেরিয়ে এখন গান পৌঁছে যাচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু মাধ্যম বদলালেও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের আবেদন কমেনি।
বরং তাঁর বহু গান নতুন প্রজন্মের কাছেও এখনো সমান পরিচিত ও জনপ্রিয়। পুরোনো গানের পাশাপাশি তাঁর কণ্ঠের বিশেষত্ব বাংলা সংগীতের ইতিহাসে তাঁকে একটি আলাদা অবস্থান দিয়েছে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮৪ সালে তিনি একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
এ ছাড়া চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ১৪ বার সম্মানিত হওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন।
জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও সাবিনা ইয়াসমিনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি এই শিল্পীর দীর্ঘ সংগীতজীবন ও বাংলা গানে তাঁর অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে।
৭২ পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা দিলেও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের সেই জাদু আজও অমলিন। অসংখ্য গান আর অনন্য গায়কীর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সংগীতে যে অধ্যায় তৈরি করেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রোতাদের মনে বেঁচে থাকবে।