দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান, তেমনি রয়েছে সৃষ্টি ও সৌন্দর্যের উচ্ছ্বাস। সেই চিরজাগরূক কবিকে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে স্মরণ করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘দুয়ার ভাঙা গান’।
‘সৃষ্টি সুখের উল্লাস’ স্লোগানকে ধারণ করে নজরুল বর্ষ ও জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২১ আগস্ট) আবৃত্তি সংগঠন কাব্য কুহুক এ আয়োজন করে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি মিলনায়তনে বিকেল ৫টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। পরে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
‘দুয়ার ভাঙা গান’-এ নজরুলের কবিতা ও আবৃত্তিকে উপস্থাপন করা হয় ভিন্ন নান্দনিকতায়। পরিবেশনার বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে আসে কবির দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের দর্শন। প্রচলিত আবৃত্তির বাইরে সৃজনশীল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নজরুলের কবিতাকে নতুন করে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়।
আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের আবৃত্তিশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা ও চেতনার এই প্রকাশ দর্শকদের মধ্যেও সৃষ্টি করে বিশেষ আবেগ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, নজরুল বিশেষজ্ঞ ও ‘বাঁশরী’র কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান এবং কাব্য কুহুকের পরিচালক ফারহানা তৃনা।
শিশুদের পরিবেশনার প্রশংসা করে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা ও চেতনার উচ্চারণ আগামী দিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
কাব্য কুহুকের পরিচালক ফারহানা তৃনা বলেন, ‘শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সুন্দর সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত তৈরি হবে।’ শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী’র শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। আবৃত্তি, সংগীত ও সম্মিলিত শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে নজরুলের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস ছিল পুরো আয়োজনজুড়ে।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে টিটু মুন্সি, মেহেদী হাসান, মাহমুদা আক্তার, মাহমুদুল হাসান, আলী আহমেদসহ আরও অনেকে আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে নজরুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য নিবেদন। ‘দুয়ার ভাঙা গান’ যেন শুধু একটি আবৃত্তি সন্ধ্যায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলকে জানার, তাঁর সৃষ্টি চর্চা করার এবং তাঁর মানবিক ও দ্রোহের চেতনা ধারণের নতুন প্রত্যয় জাগিয়েছে।