প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাঁর কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। সফর চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই তা জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই। প্রধানমন্ত্রীর সফর যখন যে দেশে ঠিক হবে, তাঁর অফিস থেকেই আপনারা জানতে পারবেন।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। চলতি মাসে এ সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে সফরের আগে বাংলাদেশ ভারতের কাছে কয়েকটি বিষয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা জানিয়েছে।
এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এসব বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
এদিকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রীকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ না করে শুধু বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে উল্লেখ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা
ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি তাঁর সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বাংলাদেশ চায়, যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরুর পর প্রথম কয়েক বছরের মধ্যে সংকটের সমাধান করা গেলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বর্তমানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সংকটও গভীর হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কৌশলে পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি আগের উদ্যোগগুলোও চালু থাকবে।
বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা উপাত্ত নেই। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ যেন মক্কা চুক্তিতে যোগ না দেয়—এমন কোনো অনুরোধ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।