কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের জনপ্রশাসনকে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি এবং এআইকে কাজে লাগিয়ে সরকারি সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়ানো সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ১৪৪তম ও ১৪৫তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রশাসন আর কেবল নথিপত্র পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর। নীতি বিশ্লেষণ, সেবা প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে জনসেবায় তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআইনির্ভর করে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এবং জ্ঞানভিত্তিক সেবা খাতের বিকাশ প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি জেলায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিচয় তাঁর পদবিতে নয়, বরং কর্ম, সততা ও উদ্ভাবনী চিন্তায়। মানুষের জীবন সহজ করা, সময় সাশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা অপরিহার্য।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে, তবে প্রতিটি সংকটকে সুযোগে রূপ দিতে হবে। জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখা এবং নতুন প্রযুক্তি ও ধারণা গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য প্রশাসন, প্রশাসনের জন্য জনগণ নয়’—এই দর্শনকে সামনে রেখেই পাঁচ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুই ব্যাচের ৭৪ জন কর্মকর্তাকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার, এনএপিডির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির অনুষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।