বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে যেতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখছে সরকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, নেপালের একজন কর্মী যেখানে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় বিদেশে যেতে পারেন, সেখানে বাংলাদেশিদের কেন অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমিয়ে অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোনো কর্মী যেন দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য না হন, সে জন্য কঠোর নজরদারি চলছে। বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে এখনো মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে সুযোগ তৈরি হলে সরকার ইতিবাচকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তিনি আরও জানান, লাওস ও কম্বোডিয়ায় ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ট্যুরিস্ট ভিসায় নিয়ে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস বা চাকরির প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এ কারণে এসব দেশের ট্যুরিস্ট ভিসাধারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো 'মাইগ্রেশন উইং' গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবপাচার প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।