জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ মেলা শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে। রাজধানীর আগারগাঁয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলা চলবে ১ আগস্ট পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে লাইসেন্সবিহীন প্রতারক চক্র কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের কবলে না পড়ে সরাসরি অনুমোদিত এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে আর্থিক লেনদেন করার অনুরোধ জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এ তথ্য জানান। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় হজ কার্যক্রমে অনুমোদনপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো স্টল দেবে উল্লেখ করে ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, এই মেলার মাধ্যমে বিভিন্ন হজ এজেন্সির প্যাকেজ মূল্য ও প্যাকেজে বর্ণিত সুবিধাদি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ছাড়াই সরাসরি হজে গমণের জন্য পছন্দমতো এজেন্সির সঙ্গে বুকিং বা চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সৌদি সরকারের নতুন হজ নীতিমালার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের হজের রোডম্যাপ, ক্যাটারিং সার্ভিস বাধ্যতামূলক, ডি ক্যাটাগরি সার্ভিস প্রত্যাহারসহ অনেক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করা কঠিন ও কষ্টসাধ্য হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহমেদ বলেন, সৌদি সরকারের মনোভাব হচ্ছে, যার সামর্থ্য নাই তার হজে আসার দরকার নাই। সেই কারণে তারা এই বছর যে ডি ক্যাটাগরি সার্ভিসটি আমরা নিয়ে থাকতাম, সেটি এবার প্রত্যাহার করেছে। যার কারণে সার্ভিস আপডেট করার কারণে সৌদি পর্বে ৬৬ হাজার টাকা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের আমাদের সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, যে খরচ কমিয়েছেন, সেটি সমন্বয় করার পরও দৃশ্যমানভাবে হজের খরচটি একটু বেশি মনে হচ্ছে, তবে সেটি আগের তুলনা করলে, খরচ অনেক কমেছে।
হাব মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ হজযাত্রী এবং শতভাগ ওমরাহযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ ও ওমরাহ পালন করেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ ও ওমরাহ হাব সদস্যদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ২০২৬ হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, হাবের উদ্যোগে হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬ শুধু বর্তমান হজ ব্যবস্থাপনার জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনায় যেসব নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে সেসব বিষয়ে হজযাত্রীরাসহ সব অংশীজনের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।