উদীয়মান ও আন্তঃদেশীয় বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আসিয়ান এবং এর অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি (ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন-টিএসি)-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সাইবার হামলা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলার সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সংঘটিত সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
পাঁচ দশক আগে স্বাক্ষরিত টিএসি চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশ ২০০৭ সালে টিএসি-তে যোগ দেয়। এর মাধ্যমে দেশটি আসিয়ানের নীতিভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি।
টিএসি-এর ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং সার্কুলার ইকোনমিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে ড. খলিলুর রহমান ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং টিএসি-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে ম্যানিলা সফর করছেন।