২০১৩ সালের শাপলা চত্বর অভিযানে সংঘটিত কথিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা এ প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রবিবার (১৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে প্রসিকিউশন অফিস থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে।
এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওই দিন গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।