মাত্র ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সরকার অনুমোদন দিলে কম খরচে হজ ফ্লাইট পরিচালনায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বেসরকারি এই এয়ারলাইনস, যা হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেখানে ২০২৬ সালে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, এই প্রস্তাব হজের বিমান ভাড়া কমাতে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি হজ প্যাকেজ চূড়ান্তকরণ সভায় আলোচনা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। চিঠিটি পাঠান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চিঠিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব শর্ত মেনে আসন্ন মৌসুমে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করতে প্রস্তুত। প্রস্তাবিত ৯৮ হাজার টাকা নেট ভাড়ার সঙ্গে ট্যাক্স, চার্জ এবং এজেন্সি কমিশন অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের তুলনামূলক কম খরচে হজ পালনের সুযোগ তৈরি হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হজের বিমান ভাড়া কমানোর আলোচনায় এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস হজযাত্রী বহন করছে।
চিঠিতে ইউএস-বাংলা জানায়, সরকারের অনুমোদন পেলে এবং সৌদি আরবের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথোরিটির অনুমতি সাপেক্ষে ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে তারা প্রস্তুত। তাদের লক্ষ্য স্বল্প খরচে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবা দেওয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে হজযাত্রীদের জনপ্রতি বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ফলে ইউএস-বাংলার প্রস্তাব কার্যকর হলে ভাড়ায় উল্লেখযোগ্য হারে কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হজের বিমান ভাড়া কমানোর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ইউএস-বাংলার প্রস্তাবটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সভায় আলোচনা হবে।
মঙ্গলবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবেন।
ধর্ম সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হজের ব্যয় কমানো। বিমান ভাড়ায় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হলে হজযাত্রীরা সরাসরি এর সুফল পাবেন।