মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি জমি নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাকে এক কোটি টাকা ঘুষের প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করছে প্রশাসন।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, শিবচর পৌরসভার গুয়াতলা এলাকার বাসিন্দা পলাশ চন্দ্র দাস ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ১৯৬১ সালের একটি কথিত দলিল, জাল এসএ ও আরএস পর্চা এবং ভুয়া আদালতের রায়ের কপি দাখিল করে প্রায় ২৩১ শতাংশ জমি নিজের নামে নামজারির আবেদন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ মে একই চক্র ৪১১ শতাংশ জমির জন্য নতুন করে আবেদন করে।
আবেদন যাচাইয়ের সময় পৌর ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) সাহাদাত হোসেনের কাছে নামজারি সম্পন্ন করতে এক কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইখা সুলতানাকে জানান।
পরে তদন্তে দেখা যায়, আবেদনপত্রে দাখিল করা দলিল, পর্চা ও আদালতের নথিসহ সব কাগজপত্রই জাল। এছাড়া যে সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি ওই সময় চাকরিতেই ছিলেন না। আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমি অনেক আগেই বাংলাদেশ সরকারের খাস সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজানের পরামর্শে পলাশ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাকে আটক করে শিবচর থানায় পাঠানো হয়েছে। তার ভাই ওয়াসিম চন্দ্র দাসসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইখা সুলতানা বলেন, সরকারি জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দখল বা নামজারির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
প্রশাসনের দাবি, আটক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্তও পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।