বলেশ্বরের ইলিশ এখন বিলাসিতা

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

সারাদেশ

একসময় আষাঢ়-শ্রাবণ এলেই বলেশ্বর নদীর ইলিশে মুখর থাকত বাগেরহাটের শরণখোলার বাজার। হালি হিসেবে ইলিশ কিনে কলাপাতার রশিতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফেরার

2026-07-13T14:29:12+00:00
2026-07-13T14:29:12+00:00
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বলেশ্বরের ইলিশ এখন বিলাসিতা
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২:২৯ পিএম 
ফাইল ছবি
একসময় আষাঢ়-শ্রাবণ এলেই বলেশ্বর নদীর ইলিশে মুখর থাকত বাগেরহাটের শরণখোলার বাজার। হালি হিসেবে ইলিশ কিনে কলাপাতার রশিতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফেরার সেই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। নদীতে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে বলেশ্বরের ইলিশ এখন শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্তের কাছেও বিলাসিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শরণখোলার রায়েন্দা মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে ছোট জাটকা ইলিশই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। একটু বড় আকারের ইলিশের দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এমন দামে ইলিশ কেনা অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই সম্ভব নয়।

রায়েন্দা বেড়িবাঁধ এলাকার জেলে মনির হোসেন বলেন, আগে বলেশ্বর নদীতে প্রচুর ইলিশ মিলত। এখন জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। দু-একটি ছোট ইলিশ পাওয়া গেলেও বড় ইলিশ খুবই বিরল।

স্থানীয় গৃহিণী শাকিলা সুলতানা অথি বলেন, বাজারে ইলিশ খুব কম আসে। যা পাওয়া যায়, তার দাম এত বেশি যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।

ওয়ার্কশপ ইঞ্জিনিয়ার মো. টিটু হাওলাদার বলেন, মানুষের আয় কমেছে, সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় কয়েক হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা কল্পনার বাইরে।

রায়েন্দা মাছ বাজারের ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন জানান, নদী ও সাগরে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। জেলেরা বড় ইলিশ তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাজার থেকে ফিরছেন খালি হাতে।

তবে বাজারের আরেক ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ইলিশের প্রতি মানুষের আবেগ এখনও কমেনি। সামর্থ্যবান অনেকেই বেশি দাম দিয়েও ইলিশ কিনছেন। সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরাই মূলত এখন ইলিশের বড় ক্রেতা।

শরণখোলা উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের দাবি, অবৈধ চরঘেরা ও বেন্দিজাল দিয়ে জাটকা নিধন, আধুনিক প্রযুক্তিতে অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এসব কারণে ইলিশের ওপর চাপ বাড়ছে।

তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস ভিন্ন মত দিয়ে বলেন, সাগর ও নদীতে ইলিশ রয়েছে। ভাদ্র-আশ্বিনে মূল মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়বে। বর্তমানে মৌসুমের আগে মাছ কম ধরা পড়ায় বাজারে দাম বেশি, যা স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: