প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে নিজের ঘরের মতো মনে করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান বা উন্নয়নের দায়িত্ব বাইরের কারও নয়; সম্মিলিত উদ্যোগ ও নাগরিক সচেতনতাই পারে দেশকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিশালে এটিই তাঁর প্রথম সফর। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশের মালিক দেশের জনগণ। আপনি যেই ঘরের মালিক, যে ঘরে আপনি থাকেন- তার খুঁটি দুর্বল হলে বা ময়লা হলে যত্ন কে করে? ঘরের মালিকই করে। দেশটা যেহেতু আমাদের সকলের, তাই এই দেশটার যত্নও আমাদেরকেই করতে হবে। বাইরের দেশ থেকে কেউ এসে আমাদের দেশ পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না।’
বক্তব্যের শুরুতেই রোপণ করা গাছের চারাগুলোর যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই গাছের যত্ন নিলে গাছটি যখন বড় হবে, তখন তা অন্য দেশের মানুষকে বাতাস দেবে না। এর সুফল এই এলাকার মানুষই ভোগ করবে।’
পরিবেশের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখলাম যেখানে সেখানে বাজার আছে, সেখানে বিভিন্ন কাগজপত্র, পলিথিন, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতল পড়ে পরিবেশটা একদম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই যে আমার সামনে ঐখানে একটা প্লাস্টিকের বোতল পড়ে আছে, ঐখানে খুব সম্ভবত একটা সিগারেটের প্যাকেট পড়ে আছে। আমরা যখন ছবিতে বা টেলিভিশনে অন্য দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখি, তখন আমাদের মনে হয় ‘আহা ওদের রাস্তাঘাট কী সুন্দর!’ কিন্তু ভাই, ওদের দেশের রাস্তাঘাট তো ওরাই পরিষ্কার করে রাখে।’
বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও খালের পানি দূষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় যদি আমরা ময়লা-আবর্জনা ফেলি, তাহলে খাল-বিল বন্ধ হয়ে যাবে। সারা দেশের খাল-বিল যদি ঠিকঠাক থাকে, তবে বন্যার সময় ক্ষতি কম হবে, পানি ঘরে-বাড়িতে কম ঢুকবে। এই গ্রামে আসলে তাও কিছুটা বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যায়, কিন্তু আবর্জনা দিয়ে সব জায়গা ভরে গেলে পুরো দেশের পরিবেশ নষ্ট হবে। তখন ছোট-বড় সবার শ্বাসজনিত অসুখ-বিসুখ হবে।’
পরিবার ও সরকারের একক প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা পরিবারে যদি ৫-৭ জন মানুষ থাকে, আর একজন সারাদিন বাড়ি পরিষ্কার করে বাকিরা ময়লা করে, তবে সেই বাড়ি পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। দেশটাও ঘরের মতোই। শুধু সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার করবে আর সবাই মিলে ময়লা করতে থাকলে দেশ কখনো পরিচ্ছন্ন হবে না।’
জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের পকেট থেকে টিস্যু বের করে একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ‘আমার পকেটে হাত দিলে এই দেখেন টিস্যু বের হবে। একটু আগে আমি মাটি নাড়াচাড়া করে হাত ধুয়ে এই টিস্যু ব্যবহার করেছি। এখানে ফেললে আমি যা বলছি, তা নিজেই মানলাম না। তাই ছোটবেলা থেকে আমি অভ্যাস করেছি, যখনই টিস্যু ব্যবহার করি, তা পকেটের মধ্যে রেখে দেই। সারাদিনের সব টিস্যু এক পকেটে জমা হয়। রাতে বাসায় গিয়ে তা ডাস্টবিনে ফেলি। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে এই অভ্যাসটি তৈরি করতে পারব। দেশের প্রতিটি মানুষ এই অভ্যাস গড়ে তুললে বিদেশ থেকে যারা আসবে তারাও বলবে বাংলাদেশ একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ।’
আজকের বক্তব্য কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে নিজের দেশের জন্য ভালো কিছু করাটা অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজটি করতে পারলে তা দেশের জন্য, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সুস্থ দেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আসুন, আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, আমরা আমাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আশেপাশের পরিবেশ, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও সুন্দর রাখব।’