১১ জুলাই শুধু একটি জন্মদিনের তারিখ নয়, বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র উচ্চারণকে নতুন করে স্মরণের দিন। দ্রোহ, প্রেম, প্রকৃতি ও প্রার্থনাকে একই কাব্যভাষায় ধারণ করা কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে আসে তাঁর শব্দের ভুবন, ফিরে আসে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা এক অনন্য সৃজনযাত্রার গল্প। ১৯৩৬ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্ম নেওয়া মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ আজও তাঁর কবিতা ও সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে পাঠকের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক।
আজ আলোচনা, স্মরণসভা ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কবি আল মাহমুদের জন্মদিন পালন করবেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
আল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সাড়া জাগানো জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সোনালী কাবিন’। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি হিসেবে সমাদৃত। এ ছাড়া ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’, ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’ তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
শিশুদের জন্য লেখা ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ তার অন্যান্য জনপ্রিয় বই। তার বিখ্যাত গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’। তার উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে ‘গন্ধ বণিক’, ‘ভেজা কাফন’, ‘জলবেশ্যা’ ও ‘পশর নদীর গাঙচিল’।
আল মাহমুদ কবি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও তিনি বেশ কিছু অসাধারণ উপন্যাস রচনা করেছেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘উপমহাদেশ’। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তার অন্যতম জনপ্রিয় এ উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন। এ ছাড়া ‘কাবিলের বোন’, ‘ডাহুকী; কবি ও কোলাহল তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
কবি আল মাহমুদ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।