শহরের আরাম-আয়েশ ও সম্ভাবনাময় কর্মজীবন ছেড়ে গ্রামের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছেন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাচীকাটা গ্রামের তিতুমীর কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী হেমায়েত হোসেন। এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাঠাদানে অল্প দিনেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
শিক্ষক হেমায়েত জানান, গ্রামের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থাভাবে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। সেই বাস্তবতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি শহর ছেড়ে নিজ এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন।
শুরুতে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে নীজ গ্রামে পূর্ব কাচিকাটা ইকরা একাডেমি এন্ড কোচিং সেন্টার নামে টিনসেট একটি কক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।
শিক্ষক যে বিদয়ালয়ে লেখাপড়া ( ছাত্র) জীবন শুরু করেন ১০নং পূর্বকাচীকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সেই বিদ্যালয়ের অর্থ সংকটে থাকা সুবিধা বঞ্চিত চারজন শিক্ষার্থীকে তার কোচিং এনে পাঠ দান করান এবং অল্প সময়ে পাঠা দানে চারজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবছর পঞ্চম শ্রেনীতে বৃত্তি পেয়েছেন।
কাচিকাটার শুভেন্দু কুমারের পূত্র প্রতম পাল, কার্তিক কুমারের পূত্র কৌশিক পুন্ডুলী সুজয় কুমার পালের কন্যা মিথিলা পাল ও বড় গোপালপুরের মাসুদ রানার পূত্র মিনহা সুলতানা।
শিক্ষক হেমায়েত বলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে পাঠদান করা হয়। ফলে অল্প সময়েই তারা বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করতে পারে এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, আগে সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এখন নিয়মিত তদারকি ও মানসম্মত পাঠদানের কারণে তাদের সন্তানদের ফলাফলে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন উদ্যোগ শুধু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নেই নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা এ ধরনের উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণে এলাকাবাসীর সহযোগিতার আহ্বান জানান।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেধা ও আন্তরিকতার সমন্বয়ে পরিচালিত এমন উদ্যোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
হেমায়েত হোসেন খান সম্পর্কে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে পূর্ব কাচীকাটায় জন্মগ্রহণ করেন, শিক্ষাজীবন শুরু করেন ১০নং পূর্ব কাচীকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শিক্ষাজীবন শেষ করেন ১৯৯৯ সালে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে গনীত বিষয়ে বিএসসি করে।
ঢাকার নীলক্ষেতে কোচিংসহ একাধিক ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন, ভালো অবস্থায় অতিতের দিন গুলো অতিবাহিত করেছেন। মধ্যবয়সী হেমায়েত নীজ এলাকার দরিদ্র পরিবারের কথা চিন্তা করে ঢাকা ছেড়ে এলাকার সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের খুজে এনে তার কোচিং এ শিক্ষাপ্রদান করে চারজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।
তিনি এলাকার শিশুদের নিয়মিত পাঠদান, অবহেলিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানে সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।