জন্ম থেকেই দুই পা অচল। শৈশবে হারিয়েছেন মায়ের স্নেহ, কয়েক বছর আগে মারা গেছেন বাবাও। জীবনের এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কারও কাছে হাত পাতেননি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের হোগলার মাঠ এলাকার বাসিন্দা মো. জিসান মোল্লা (২৫)। ভিক্ষাবৃত্তিকে না বলে প্রতিদিন কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সোমবার সরেজমিনে জিসানের বাড়িতে গিয়ে কথা হলে তিনি জানান, জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় হাঁটতে পারেন না। মাত্র ছয় বছর বয়সে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করলেও আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
জিসান বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে বাড়ির পাশে ছোট একটি মুদি দোকান চালাতেন। তবে পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে ব্যবসা বড় করা সম্ভব হয়নি। প্রায় চার বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে তিনি শিবচর পৌরসভার লালন মঞ্চের পাশে অস্থায়ীভাবে সবজি বিক্রি শুরু করেন।
তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে বাকিতে কাঁচামাল এনে সন্ধ্যায় বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করেন। সামান্য যে লাভ হয়, তা দিয়েই চলে তার সংসার। তবে বাড়ি থেকে বাজারে যেতে প্রতিদিনই তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জিসান বলেন, বাড়ি থেকে মূল সড়কে পৌঁছাতে দুই হাতে ভর দিয়ে প্রায় ২০ মিনিট চলতে হয়। এরপর যানবাহনে করে বাজারে যাই। প্রতিদিন যাতায়াত খরচও অনেক। তারপরও আমি ভিক্ষা করতে চাই না। নিজের পরিশ্রমে বাঁচতে চাই।
তিনি আরও বলেন, একটি হুইলচেয়ার ও কিছু আর্থিক সহায়তা পেলে বাড়ির কাছেই ছোট একটি মুদি দোকান গড়ে তুলতে পারবেন। এতে নিয়মিত যাতায়াতের কষ্টও কমবে এবং স্বাবলম্বী হওয়া সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জিসান দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো ভিক্ষার পথ বেছে নেননি। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি উদ্যোগে তার জন্য একটি হুইলচেয়ার এবং ব্যবসার পুঁজি দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও জিসান যেভাবে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় তাকে আরও কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব।