দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন (টুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত।
রোববার (২৮ জুন) থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) টুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ভিসা সেবা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর সেবা চালু হওয়ায় ভ্রমণপ্রত্যাশীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি জানান, পর্যটন ভিসার পাশাপাশি মানবিক কারণে মেডিকেল ভিসাও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব আইভ্যাক কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।
অনলাইনে আবেদন যেভাবে করবেন
ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার জন্য প্রথমে ভারতের অনলাইন ভিসা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘রেগুলার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন’ নির্বাচন করে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং ভিসার ধরন হিসেবে টুরিস্ট ভিসা বেছে নিতে হবে।
এরপর পাসপোর্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট বিবরণ ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে একটি ওয়েব ফাইল নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যাবে, যা পরবর্তী ধাপের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। নির্ধারিত ফরম্যাটে ছবি আপলোড করে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে।
সাম্প্রতিক তোলা ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ এবং পেশাগত নথি জমা দিতে হবে। চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি বা প্রত্যয়নপত্র, ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচয়পত্র বা বোনাফাইড সনদ প্রয়োজন হবে।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
আবেদনকারীর গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা পাসপোর্টে ন্যূনতম ১৫০ মার্কিন ডলার অ্যান্ডোর্সমেন্ট থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপিও দেওয়া যাবে।
আবেদন জমা ও প্রক্রিয়া
অনলাইন আবেদন শেষে আইভ্যাকের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে এবং ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। প্রতিদিনের স্লট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টায় খোলা হয়, তবে বুকিংয়ের জন্য বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সাইন-আপ সম্পন্ন করতে হবে।
নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আইভ্যাকে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান) দিতে হবে। এরপর একটি রিসিপ্ট দেওয়া হবে, যা পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হবে।
ভিসা প্রক্রিয়ার সময়
আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে যাচাই-বাছাই ও পরিস্থিতিভেদে সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ভিসা অনুমোদিত হলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে এবং নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।
সতর্কতা
আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। তাই নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বরসহ সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্লিকেশন আইডি সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।