বাংলাদেশের পররাষ্ট্র-কূটনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

সুজন দে

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার বেলা ৩ টায় চীন সফরে যাবেন। ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে

2026-06-22T10:15:55+00:00
2026-06-22T10:15:55+00:00
  সোমবার, ২২ জুন ২০২৬,
৮ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
জাতীয়
তারেক রহমানের চীন সফর : পরাশক্তির পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র-কূটনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
সুজন দে
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার বেলা ৩ টায় চীন সফরে যাবেন। ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের  সঙ্গে  দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন  তিনি। তার আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

এদিকে রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফরে যান  তিনি। বেলা পৌনে ৩ টার দিকে শাহজালাঠ আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯ টার দিকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে  কুয়ালালামপুর পৌঁছান তিনি। 

সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুইটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সেখানে যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেল ও যোগাযোগ খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প স্থাপন এবং উন্নয়ন সহায়তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে উঠতে পারে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  চীন সফরকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। 

সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায় হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার চেয়ে চীন সফরই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। এ সফরকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যেও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ সফরের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশও সফরের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আগ্রহী। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর ভূরাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।  কারণ এটি বাংলাদেশে বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করতে পারে। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থে কিছু উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। 

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। তবে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখলে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখার সুযোগও থেকে যেতে পাওে বলে মনে করছেন রাজনৈকিক বিশ্লেষকরা। 

এদিকে চীন ও মালয়েশিয়া সফরের মাত্র একদিন আগে গত ২০ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারগণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমাননের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন । বৈঠকে মূলত দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় ।  

তবে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ঠিক আগে এসব বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক  মহল ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এই ব্যাপারে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের অগ্রগতি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। 

তার মতে, ভারত সফরটিকে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে, আর যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার গভীরতা কতটা বাড়ে।

তবে বাংলাদেশ কোন দেশ সফর করবে, তা অন্য কোনো রাষ্ট্র নির্ধারণ করে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে নিজস্ব সিদ্ধান্তেই সরকার কূটনৈতিক সফর করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না। 

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাব। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাব, প্রয়োজনে চীনেও যাব। ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বিশ্বের সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছে। 


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: