হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা চলছে তখন। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করলেন ভিনিসিউস। ধারাভাষ্যকার বললেন, ফিলাডেলফিয়ায়

2026-06-20T09:03:28+00:00
2026-06-20T09:03:28+00:00
  শনিবার, ২০ জুন ২০২৬,
৬ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
খেলা
হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল
ক্রীড়া ডেস্ক
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৯:০৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা চলছে তখন। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করলেন ভিনিসিউস। ধারাভাষ্যকার বললেন, ফিলাডেলফিয়ায় ফিরে এসেছে সাম্বার ছন্দ….।

প্রথমার্ধে তিন গোলের পর মনে হচ্ছিল, সাম্বার তালে হয়তো আরও জ্বলে উঠবে ব্রাজিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ততটা ধার আর দেখা গেল না। হলো না আর কোনো গোল। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তিই পাবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম জয় তো ধরা দিল!

বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল। একাদশে ফেরার ম্যাচে জোড়া গোল করেন মাতেউস কুইয়া, বাকি গোলটি আসে ভিনিসিউস জুনিয়রের পা থেকে।

জাতীয় দলের জার্সিতে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় বরাবরই সমালোচিত রেয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্ব আসরে এবার গোল পেলেন টানা দুই ম্যাচে।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের শুরুর পর এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে এখন কার্লো আনচেলত্তির দল। স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পর এই পরাজয়ে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতির।

গোটা ম্যাচে ব্রাজিলকে খুব বেশি চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়নি। শেষ দিকে কিছু আক্রমণ ছাড়া গোটা ম্যাচে গোলকিপার আলিসন বেকারের পরীক্ষা তেমন একটা নিতে পারেনি হাইতি।

ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। দানিলোর পা মাড়িয়ে চতুর্থ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখে ব্রাজিলের আর্কাস। পরের মিনিটে হাইতির গোলকিপার গোল কিক নিতে একটু দেরি করায় ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী কর্নার পায় ব্রাজিল। যদিও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

অষ্টম মিনিটে বাঁ প্রান্তে সাময়িকভাবে ভারসাম্য হারানোর পর ভিনিসিউস সঙ্গে সঙ্গেই উঠে দাঁড়ান এবং তাকে মার্কিং করা ফুটবলারকে পুরোপুরি হতচকিত করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু এরপরই হারিয়ে ফেলেন বলের নিয়ন্ত্রণ।

ত্রয়োদশ মিনিটে রাফিনিয়া জালে বল পাঠালেও গোল হয়নি অফসাইডের কারণে।

ব্রাজিলের আক্রমণের স্রোত বইতে থাকে। অষ্টাদশ মিনিটে ডান দিক থেকে রাফিনিয়া বক্সে একটি জোরাল শট নেন। হাইগির গোলকিপার বলটি ঘুষি মেরে নিরাপদ করতে পারেননি। বল চলে যায় বক্সের বাঁ দিকে ভিনিসিউসের কাছে। এই ফরোয়ার্ড ডান দিকে ওপরে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার শট প্রতিহত হয়ে কর্নার হয়। কাজে লাগানো যায়নি নেই কর্নারও।

২২তম মিনিটে রাফিনিয়ার চিপ দূরের পোস্ট দিয়ে বাইরে চলে যায়। যদিও তিনি অফসাইড ছিলেন।

সুযোগ হাতছাড়ার ভিড়েও বোঝা যাচ্ছিল, যে কোনো সময় গোল আসবে। সেই গোল ধরা দেয় ২৩তম মিনিটে। যদিও তা খুব দর্শনীয় কিংবা গোছানো ছিল না।

যথারীতি ব্রাজিলের আরেকটি আক্রমণ থেকে হাইতির বক্সে জটলা তৈরি হয়, তাদের ডিফেন্ডাররা পরস্পরের ওপর পড়ে যান। কুইয়া কোনোরকমে বল ঠেলে দেন। হাইতির একজনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বলটি তার শরীরে রিবাউন্ড হয়ে জালে প্রবেশ করে। সৌভাগ্যের স্পর্শই বলা যায়!

পরের গোলটি ছিল দেখার মতোই। মাঝমাঠের একটু ওপর থেকে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে প্রতিপক্ষের তিনজনের মধ্য দিয়ে দারুণ পাস দেন ভিনিসিউস। বল ধরে বক্সে ঢুকে প্রায় ‘রং ফুটেড’ হয়ে যাচ্ছিল কুইয়ার। কিন্তু সামলে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরাল শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন। গোলকিপারের কোনো সুযোগই ছিল না।

গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে নতুন ধরনের এক নাচ দিয়ে উদযাপন করেন ম্যানচেস্টার ইউনাটেডের ফরোয়ার্ড।

৩৯তম মিনিটে চোট পেয়ে উঠে যান রাফিনিয়া। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, হয়তো সতর্কতার জন্যই বার্সেলোনার ফরোয়ার্ডকে তুলে নিচ্ছেন কোচ। তবে কারও সঙ্গে লেগে বা দৃশ্যমান কোনো ঘটনায় এই চোট হয়নি। যেটির মানে, হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগতে পারে তার। অনেক সময় এটি গুরুতর হয়ে থাকে। তার বদলে নামেন তরুণ প্রতিভা হায়ান।

৪৫ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। এর তৃতীয় মিনিটে গোল পান ভিনিসিউস। নিজেদের অর্ধ থেকে হাইতির হাই-লাইন ডিফেন্সের ওপর দিয়ে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ও নিখুঁত চিপ করেন লুকাস পাকেতা। বল ধরে ভিনিসিউস দ্রুত ঢুকে যান বক্সে। আগুয়ান গোলকিপারের পায়ের নিচ দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল পাঠিয়ে দেন গন্তব্যে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হাইতি চেষ্টা করে কিছু আক্রমণের। তবে ব্রাজিলের রক্ষণকে বিপাকে ফেলতে পারেনি খুব একটা। উল্টো ৫৫তম মিনিটে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে যান ভিনিসিউস। তবে এবার তাকে শট নেওয়ার জায়গা দেননি হাইতির ডিফেন্ডাররা।

পরের মিনিটে হাইতির একটি আক্রমণে বক্সের জটলা থেকে হেড করেন দমিনিক সিমোঁ। তবে বদলি নামা মিডফিল্ডারের হেডে ছিল না জোর। আলিসন বেকার বল ধরে নেন সহজেই।

এরপরই পাল্টা আক্রমণে দারুণ সুযোগ তৈরি করেন ভিনিসিউস। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে একদম গোলমুখে বল বাড়ান তিনি। প্রয়োজন ছিল স্রেফ টোকা দিয়ে বল জালে ঢুকিয়ে দেওয়া। কিন্তু সময়মতো ঠিক জায়গায় যেতে পারেননি হায়ান।

হাইতি সেরা সুযোগটি পায় ৬৪তম মিনিটে। কর্নার থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেড করেন রিকার্ডো আদে। দারুণ রিফ্লেক্সে তা ফিরিয়ে দেন বেকার। তবে দলকে পুরো বিপদমুক্ত করতে পারেননি ব্রাজিলের গোলকিপার, বল ভেসে ওঠে ওপরে। ছুটে এসে ওভারহেড কিকে দলকে রক্ষা করেন দানিলো।

৬৫তম মিনিটে কুইয়া ও পাকেতাকে উঠিয়ে এন্দ্রিক ও গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামান কোচ। তিন মিনিট পরই দৃশ্যপটে দেখা যায় মার্তিনেল্লিকে। ভিনিসিউসের নান্দনিক ব্যাক হিল থেকে তার জোরাল শট ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। তবে এমনিতেও তা গোল হতো না। অফসাইডের পতাকা তোলেন সহকারী রেফারি।

৭৫তম মিনিটে হায়ানের চমৎকার পাস থেকে দগলাসের জোরাল শট ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে চলে যায়।

দুই মিনিট পর হায়ানের আরেকটি ভালো পাস থেকে হাইতির গোলকিপারের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে উদযাপন শুরু করেন এন্দ্রিক। কিন্তু বিশ্বকাপ অভিষেকে তাকে হতাশ হয়ে থামতে হয় অফসাইডের বাঁশি শুনে। ৮১তম মিনিটে তুলে নেওয়া হয় ভিনিসিউসকেও।

৯০ মিনিট শেষে য্গে করা সময়ে দারুণ কয়েকটি আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলা বেশ জমে ওঠে। দুই দফায় গোলের কাছাকাছি যায় ব্রাজিল। হাইতিও একটু সম্ভাবনা জায়গায়। কিন্তু গোল আর হয়নি।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, একই সময়ে মরক্কোর বিপক্ষে লড়বে হাইতি।


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: