যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি দাবি করেছেন, এই উদ্যোগ ইরানের কোনো আগ্রহ থেকে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম মরিয়াভাবের’ ফল।
এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার দাবি, ইরানি কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলেও চুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ এসেছে মার্কিন পক্ষ থেকেই। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাধ্য হয়েই নানা কৌশল ব্যবহার করে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।
চুক্তি নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মতের ভিন্নতার কথাও জানান খামেনি। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ছিল।’ তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট জনগণের অধিকার এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি এতে সম্মতি দেন।
তিনি আরও হুঁশিয়ার করে বলেন, চুক্তির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি তোলে, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে নিজেকে ‘এক বিনম্র সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের কথা বলেন।
রাজকীয় ভোজসভায় ঐতিহাসিক স্বাক্ষর
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ম্যাক্রোঁ এই ঘটনাকে “দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগমকারী এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার চাবিকাঠি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল, তবে জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠকটি হঠাৎ করেই স্থগিত করা হয়।
কী আছে মার্কিন–ইরান চুক্তিতে?
স্বাক্ষরিত দলিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’।
চুক্তির মূল শর্তগুলো হলো—
যুদ্ধবিরতি: লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান।
অবরোধ প্রত্যাহার: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান উপকূল থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেনা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সম্মতি।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: ৬০ দিনের জন্য ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও বাধাহীন রাখতে উদ্যোগ নেবে।
এই সমঝোতার পর একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই পক্ষের কাছে ৬০ দিন সময় থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি