রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে একই সময়ে ডাল, চিনি ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে স্বস্তি পুরোপুরি ফিরছে না।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কিছু পণ্যের আমদানি বাড়ার কারণে দাম কমেছে। তাদের আশা, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী সপ্তাহেও কয়েকটি সবজির দাম আরও কমতে পারে।
বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন জেলা থেকে বেশি পরিমাণে সবজি আসছে। ফলে অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। সরবরাহ বাড়তে থাকলে সামনে আরও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সবজির বাজারে স্বস্তি এলেও ডাল, চিনি ও লবণের দাম বেড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মোটা মুগ ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ টাকা। একইভাবে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া বস্তাপ্রতি লবণের দামও ১০০ টাকা বেড়েছে।
মুদিপণ্য বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবই খুচরা পর্যায়ে পড়ছে। এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, পাইকারি বাজার থেকেই ডাল ও চিনি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া উপায় নেই। লবণের দামও একই কারণে বেড়েছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নাসরিন আক্তার বলেন, একদিকে সবজির দাম কমছে, অন্যদিকে ডাল-চিনির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে মোট খরচে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
এদিকে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি সাড়ে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে লেয়ার মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে এখন লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় লেয়ার মুরগির দাম কমেছে। তবে ব্রয়লার ও সোনালির বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।