ফিফা বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত আলজেরিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। এছাড়া গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আপাতদৃষ্টিতে গ্রুপ জে-কে কিছুটা সহজ মনে হলেও দলগুলোর সাম্প্রতিক ফর্ম ও পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে ছাড় পাবে না কেউই।
বিশ্বকাপের গ্রুপ জে-তে থাকা চার দলের মাঝে আর্জেন্টিনাই ফেভারিট। বাছাইয়ে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় এলেও খেলায় ছিল না স্বাভাবিক ছন্দ। অবশ্য এই ম্যাচে চারজন খেলোয়াড়ের অভিষেক করিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসিকে ছাড়া পাওয়া এই জয় তাই কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে সমর্থকদের। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে প্রীতি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। তার আগে উরুগুয়ের সঙ্গেও ড্র করেছিল আফ্রিকান নেশন্স কাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা। গেল আসরের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এবার আলজেরিয়ার বিপক্ষেও কঠিন পরীক্ষাই দিতে হব আলবিসেলেস্তেদের।
অস্ট্রিয়াকেও হালকাভাবে নেয়ার উপায় নেই। শেষ প্রীতি ম্যাচে তিউনিশিয়াকে হারিয়েছে রালফ রাংনিকের শিষ্যরা। দলে আছেন ডেভিড আলাবা, মার্কো আর্নাউতোভিচ, মার্সেল স্যাবিতজারের মতো তারকারা। অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ডাই রোট রোটেনরা নিজেদের শেষ ১১ ম্যাচে মাত্র একবার হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এশিয়ার দেশ হওয়ায় যদি জর্ডানকে দুর্বল মনে করেন, তবে সেটার উত্তর দিতেও প্রস্তুত তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা দেশটি এশিয়ান কাপ ও আরব কাপ, দুটিতেই রানার্সআপ হয়েছে। প্রীতি ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারলেও বিশ্বকে চমকে দিতেই টুর্নামেন্টে নামবে আল নাশামারা।
সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপগুলোর একটি গ্রুপ জে। প্রীতি ম্যাচে দলগুলোর ফলাফলই বলে দিচ্ছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে আর্জেন্টিনা সহ সবাইকেই দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। আলজেরিয়ার সমর্থকরা আশা করেন যে জাতীয় দল সেই দৃঢ়তা ও লড়াকু মনোভাব প্রদর্শন করবে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদেরকে আফ্রিকার অন্যতম সেরা দলে পরিণত হতে সাহায্য করেছে। আর্জেন্টিনার সাথে ম্যাচের আগে, কোচ পেতকোভিচ দক্ষিণ আমেরিকান দলটির কারিগরি খেলার ধরণ এবং দ্রুত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মোকাবিলা করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
গ্রুপপর্বে আলজেরীয় দলের জন্য এটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং তাদের দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। তাই, উত্তর আফ্রিকার এই প্রতিনিধির জন্য একটি শক্তিশালী কৌশলগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলজেরিয়া ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচটি কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে। জে গ্রুপে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টার ওই ম্যাচে খেলা হবে না দলটির বিশ্বকাপজয়ী লেফট ব্যাক নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকোর। ফ্রান্স লিগের দল লিঁওতে খেলা ত্যাগলিয়াফিকোর পায়ের মাংস পেশিতে চিড় ধরা পড়েছে। তার সেরে উঠতে এখনো সময় লাগবে। অন্তত আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খেলা হবে না।
ইনজুরিতে আক্রান্ত হলেও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের ২৬ জনের দলে থাকবেন ত্যাগলিয়াফিকো। কারণ দলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ। লিওনেল মেসি এবং নিকোলাস ওতামেন্ডি একাদশে না থাকলে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেন বাঁ পায়ের ফুটবলার। কোচ তাকে দলের একজন নেতা হিসেবে দেখছেন। ত্যাগলিয়াফিকো একজন বিশেষজ্ঞ লেফটব্যাক। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ওই পজিশনে অভিজ্ঞ ও কোচের কৌশল মেনে চলা ফুটবলার নেই। এরই মধ্যে মার্সেইতে খেলা ডিফেন্ডার লিওনার্দো বেলার্ডি ছিটকে গেছেন। তার জায়গায় মার্কো সেনসি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ঢুকেছেন। অভিজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ইনজুরি কাটিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাকে পাওয়ার আশা করছে আলবিসেলেস্তেরা। গা গরমের ম্যাচ খেলা হয়নি রাইটব্যাক নাহুয়েল মলিনারও। তবে মূল পর্বের ম্যাচ খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন তিনি।
২০২২ সালের বিশ্বজয়ের গৌরব নিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উত্তর আমেরিকায় গেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে এবার ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়ার সুযোগ। দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির ষষ্ঠ এবং ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিখ্যাত ভেন্যুতে। এরপর ২২ জুন রাত ১১টায় এটিএন্ডটি স্টেডিয়াম, আরলিংটনে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার। আগামী ২৮ জুন রোববার সকাল ৮টা এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে জর্ডান এর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
এই গ্রুপে আর্জেন্টিনার জন্য আরেকটা বড় পরীক্ষা হতে পারে অস্ট্রিয়া। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কেটেছে তারা। ফুটবলের ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার অতীত বেশ সমৃদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান এবং ১৯৫৪ সালের আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপ মঞ্চে অনুপস্থিত থাকার পর, এবার একটি গোছানো দল নিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইউরোপের এই দলটি।
অন্যদিকে, আলজেরিয়া এবার তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮২, ১৯৮৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ১৬-তে পৌঁছানোই ছিল দলটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গত ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার পর, এবার তারা আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন করল।
এদিকে, জর্ডান কেবল এই টুর্নামেন্টে পা রেখেই ইতিহাস তৈরি করেছে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১১ বার চেষ্টা করার পর, এবারই প্রথম নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করল দলটি। নিঃসন্দেহে, আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ভিন্ন দুই ঘরানার ফুটবলশৈলীর লড়াই।
একপক্ষে থাকছে আর্জেন্টিনার চমৎকার কম্বিনেশন প্লে বা পাসিং গেম ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আর অন্যপক্ষে থাকছে শ্বাসরুদ্ধকর হাই-প্রেসিং এবং সরাসরি শারীরিক শক্তিনির্ভর গতিশীল ফুটবল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা ভালো করেই জানে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের আসর থেকে ছিটকে দিতে প্রতিটি প্রতিপক্ষই মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে।
মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সব সাফল্যের অন্যতম নেপথ্য কারিগর। স্কালোনির ছকে এবারও তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে মাঠ মাতাবেন। রক্ষণভাগেও আর্জেন্টিনার নেতার অভাব নেই। তবে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন। বিশেষ করে পেনাল্টি শুটআউটে টাইব্রেকার হিরো খ্যাত এই গোলরক্ষকের উপস্থিতি শিরোপাজয়ী দলটির জন্য সবসময়ই বড় শক্তি। রক্ষণপ্রাচীর সামলাতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সেন্টার-ব্যাক জুটিও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় ভূমিকা পালন করবে।
টুর্নামেন্টের ধরন ও প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে কোচ লিওনেল স্কালোনি ৪-৪-২ অথবা ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে তার পরিকল্পনা মূলত ৪-৩-৩ ফরমেশন ধরে রাখা। যেখানে দুই সেন্টার-ব্যাকের সাথে আক্রমণাত্মক দুই ফুল-ব্যাক মিলে রক্ষণভাগ সামলাবেন। আর মাঝমাঠে থাকবেন পাসিংয়ে দক্ষ ও গতিময় মিডফিল্ডাররা। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ সবখানেই রয়েছে তারকাদের ছড়াছড়ি।
তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় আরও একটি সম্ভাব্য একাদশের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রক্ষণে গোলপোস্টের নিচে প্রধান ত্রাতা হিসেবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জায়গা একদম নিশ্চিত। এই পজিশনে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো আপাতত কেউ নেই। তবে রক্ষণভাগে স্কালোনির চার ডিফেন্ডারের ছকে এবার কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সেন্টার-ব্যাক জুটি এবার শুরু থেকেই মাঠে নামতে পারে।
সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি নামবেন বদলি হিসেবে, যেখানে বিকল্প হিসেবে মার্শেইয়ের লিওনার্দো বালেরদিও থাকবেন। আর দুই প্রান্তে ফুল-ব্যাক হিসেবে নাহুয়েল মলিনা ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো কোচের প্রথম পছন্দ থাকছেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমীকরণটি বেশ আকর্ষণীয়।
রদ্রিগো ডি পলের সাথে স্কালোনির ছকের অন্যতম ভরসা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলবেন নিশ্চিতভাবেই। তৃতীয় মিডফিল্ডার পজিশনটির জন্য থিয়াগো আলমাদা এবং এনজো ফার্নান্দেজের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে।
২০২২ বিশ্বকাপের নায়ক এনজো সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জোরে আলমাদাকে পেছনে ফেলে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন। ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলবে আলজেরিয়া।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয় আলজেরিয়া। এবার নিয়ে চতুর্থবার বিশ্বকাপে খেলবে আলজেরিয়া। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে।
শিরোপাধারী দলটির আশা, অধিনায়ক মেসির নেতৃত্বে আবারও বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের গল্প লেখা। আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপে মেসির শেষ অধ্যায়, যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আবেগ ও প্রত্যাশা।
উত্তর আফ্রিকার সাহারার তপ্ত বালু আর ভূমধ্যসাগরের নোনা বাতাসের মিশেলে যে ফুটবল উন্মাদনা জন্ম নেয়, তার নাম আলজেরিয়া। দীর্ঘ ১২ বছরের এক শূন্যতা কাটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরে আসা এই দল শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং আত্মমর্যাদা আর প্রতিরোধের এক প্রতীক।
আলজেরিয়ার ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যায়, এটি শুধু মাঠের জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, বরং অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর এক মহাকাব্য। বিশেষ করে ১৯৮২ বিশ্বকাপে সেই ‘গিজন কলঙ্ক’ আজও আলজেরীয় ফুটবলে জ্বলন্ত ক্ষত হয়ে আছে। যা তাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে শুধু খেলায় নয়, লড়তে হয় নিয়তির বিরুদ্ধেও।
পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া আলজেরিয়া যখন নকআউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই জার্মানি ও অস্ট্রিয়া মেতে ওঠে এক অঘোষিত ‘আঁতাতের’ খেলায়। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে জার্মানি গোল পাওয়ার পর বাকি সময় দুই দল স্রেফ উদ্দেশ্যহীনভাবে বল পাস করে পার করে দেয়, যাতে দুই দলই পরের রাউন্ডে যেতে পারে এবং আলজেরিয়া বাদ পড়ে।
গ্যালারি থেকে দর্শকদের দুয়োধ্বনির তোয়াক্কা না করে মঞ্চস্থ হওয়া সেই প্রহসন আলজেরিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিলেও ফুটবল বিশ্বকে দিয়েছিল এক বড় শিক্ষা যার ফলে ফিফা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে আয়োজনের নিয়ম করতে বাধ্য হয়। গিজনের সেই বেদনাদায়ক স্মৃতি থেকে প্রতিটি ধাপে আলজেরিয়া বিশ্বকে শিখিয়েছে কীভাবে ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠতে হয়।
বর্তমান কোচ ভলাদিমির পেতকোভিচ যখন দায়িত্ব নেন, তখন দলটির অবস্থা ছিল বেশ টালমাটাল। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট হারানোর বেদনা আর বারবার হোঁচট খাওয়ার গ্লানি তাদের তাড়া করে ফিরছিল। কিন্তু পেতকোভিচ তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ভর করে আলজেরিয়ান ফুটবলের পুরোনো সেই তেজ ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেন।
বিশেষ করে মোহামেদ আমুরার মতো তরুণ প্রতিভারা যখন মাঠের ঘাস ছিঁড়ে গোলের নেশায় দৌড়ান, তখন মনে হয় আলজেরিয়া তাদের সেই সোনালি দিনের উত্তরাধিকার খুঁজে পেয়েছে। যদিও ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রিয়াদ মাহরেজের ওপর দলের নির্ভরশীলতা এখনো দৃশ্যমান, তবে আমুরার ১০ গোল করার রেকর্ড জানান দিচ্ছে যে নতুনেরা স্বপ্ন দেখাতে প্রস্তুত।
আলজেরিয়ার এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা মোটেও সহজ হবে না। তাদের গ্রুপে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
তবে আলজেরিয়ানরা কোনোদিনও শক্তিতে নয়, বরং বিশ্বাসী ছিল সাহসে। ২০১৪ সালে জার্মানিকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ঘামিয়ে ছাড়ার সেই লড়াই আজও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে লেগে আছে। সেই আসরে আলজেরিয়া স্রেফ একটি দল ছিল না, ছিল ‘ডার্লিং অব দ্য টুর্নামেন্ট’।
গিজনে যে স্বপ্ন চুরি হয়েছিল, পোর্টো আলেগ্রেতে তা পূর্ণতা পেয়েছিল এক অনন্য গৌরবে। আর্জেন্টিনাকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে যাওয়া হয়তো অলীক মনে হতে পারে, কিন্তু জর্ডান বা অস্ট্রিয়ার মতো দলগুলোকে পেছনে ফেলে নকআউট পর্বে যাওয়ার সামর্থ্য ডেজার্ট ফক্সদের আছে।
আলজেরিয়ার জন্য ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি তাদের অস্তিত্বের এক লড়াই, যেখানে হার মানার কোনো শব্দ নেই।