বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
শুক্রবার (৫ জুন) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান–এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
হাকান ফিদান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের সমর্থন
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, তা মানবতার ইতিহাসে একটি বড় আত্মত্যাগ। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের পক্ষে তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাকান ফিদান বলেন, বিরোধের সমাধান কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাজায় চলমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প ও সহযোগিতার মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত করা হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।
সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় সমঝোতা
সফরকালে বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী–এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।