কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন শিক্ষার্থী ‘জঙ্গি’ অভিযোগ থেকে প্রায় সাড়ে ৯ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে খালাস পেয়েছেন।
২০১৬ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের অব্যাহতি দেন।
শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে পুলিশ, র্যাব, সিআইডি ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি দল কুমিল্লা শহরের ওই কলেজ হোস্টেলে অভিযান চালায়। এ সময় ২০২ নম্বর কক্ষ থেকে তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে কিছু ধর্মীয় ও ইসলামী বই জব্দ করা হয়। পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শুরু করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত পর্যন্ত।
গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে খালাস দেন।
রায়ের পর তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, মামলায় কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র ধর্মীয় বই জব্দ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ‘জঙ্গি’ তকমার কারণে শিক্ষার্থীরা সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আইনজীবীরা জানান, পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে এবং এ বিষয়ে তারা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে খালাস পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।