চাহিদা কমায় লোডশেডিংয়ের শঙ্কা নেই

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়

কয়েকদিন আগেও তীব্র গরমে দেশজুড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল বিদ্যুৎ বিভাগকে।

2026-05-27T16:55:49+00:00
2026-05-27T16:55:49+00:00
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
জাতীয়
চাহিদা কমায় লোডশেডিংয়ের শঙ্কা নেই
অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কয়েকদিন আগেও তীব্র গরমে দেশজুড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল বিদ্যুৎ বিভাগকে। ঈদের ছুটি শুরুর পর বিদ্যুতের চাহিদা কমতে শুরু করেছে।একই সময়ে দেশজুড়ে টানা ঝড়-বৃষ্টি, তাপমাত্রা কমে আসা এবং ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে শিল্পকারখানা ও অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা এক ধাক্কায় নেমে এসেছে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে। তাই লোডশেডিংয়ের শঙ্কা নেই।  

ফলে বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে কোনো লোডশেডিং রেকর্ড হয়নি।

বিদ্যুৎ সরবরাহের দুই মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) পিএলসি সূত্র বলছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্রিডে যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয়েছে, তার শতভাগই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

পিডিবির একজন দায়িত্বশীল প্রকৌশলী বলেন, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা অনেক কমে গেছে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে কলকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমও সীমিত রয়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে। এতে গ্রিডের ওপর চাপ এখন অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।

গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা বা ‘ডে পিক’-এ বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৬ হাজার ৩৭২ মেগাওয়াট। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় এ সময় কোনো লোডশেডিং করতে হয়নি।

এর আগে সকাল ৯টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল মাত্র ৫ হাজার ৫২১ মেগাওয়াট। সকাল ১০টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৭৭ মেগাওয়াটে এবং সকাল ১১টায় ৬ হাজার ৭৭ মেগাওয়াটে। প্রতিটি সময়েই শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতের পরিস্থিতিও ছিল অনেকটা স্বস্তিদায়ক। রাত ৯টার ‘ইভনিং পিক’-এ সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৭৭৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১০ হাজার ৭৭০ মেগাওয়াট। ফলে সারা দেশে মাত্র ৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড হয়, যা কার্যত নগণ্য। রাত ১০টার মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

যেখানে গত ২০ মে রাত ৯টার পিক আওয়ারে দেশে রেকর্ড ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল। তখনও প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। 

গত ২৪ মে রাত ৯টার ইভনিং পিকেও বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১২৭ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হয় ১৩ হাজার ৯৩৬ মেগাওয়াট। ১৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। একই দিন রাত ১২টায় ২৮৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল।

পরদিন ২৫ মে সকাল ১০টার ডে পিকে ১১ হাজার ৯৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৬৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসায় উৎপাদন ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দিনের বেলায় গ্যাস, কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দিয়েই চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা যাচ্ছে।

বুধবার দুপুর ১২টায় সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে ২৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আগের দিন মঙ্গলবার রোদ বেশি থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ৩৬৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছিল।

চাহিদা কম থাকায় দিনভর দেশের ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। এমনকি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও দিনের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন হয়নি।

একই সঙ্গে কমেছে বিদ্যুৎ আমদানির চাপও। ২৬ মে দিবাগত রাত ১টায় ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট এবং ভেড়ামারা এইচভিডিসি লাইনের মাধ্যমে ৭৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকাল ১০টায় চাহিদা কমে যাওয়ায় আদানি থেকে আমদানি নামিয়ে আনা হয় মাত্র ৪৩৪ মেগাওয়াটে। ভেড়মারা দিয়ে আসে ২১১ মেগাওয়াট।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: